Published : 09 Jul 2026, 06:19 AM
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর অবিলম্বে চালু করার দাবিতে জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স এবং শহীদ পরিবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা দাবি করেছে, এই ঐতিহাসিক স্থানটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র দ্বারা এটিকে স্থবির করা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি লিখিত বক্তব্যে এই বক্তব্য পেশ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সৈকতের বোন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট এই স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংস্কৃতিসচিব কানিজ মওলা একটি সভায় জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। সংগঠনটির প্রশ্ন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে জুলাই জাদুঘর আইন পাস করেছে, তাহলে এক আমলা কীভাবে সেই আইনে পরিবর্তন আনার অনুমোদন পেলেন? সংগঠনটি এই পরামর্শকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে যে এর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে: জাদুঘরের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কমপক্ষে আরও দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের সংবেদনশীল এই প্রকল্পে নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, জাদুঘর পরিচালনার জন্য অবশ্যই যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যারা এর নকশা ও রূপরেখা তৈরিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের ভিত্তিতেই যোগ্যতার নিরিখে এই বিশেষায়িত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
সংগঠনটি অভিযোগ করে যে ষড়যন্ত্রকারীরা কেবল উদ্বোধন বিলম্বিত করছে না, বরং প্রশাসনিক বা কাঠামোগতভাবে জাদুঘরকে অকার্যকর করতে চাইছে। তারা আরও দাবি করে যে জাদুঘরকে প্রশাসনিক অসহযোগিতা করে, বাজেট ও রক্ষণাবেক্ষণ আটকে রেখে এটিকে অচল করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে না পারে এবং এর আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে চারটি প্রধান দাবি জানানো হয়: দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘর উন্মুক্তকরণ, যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ, ষড়যন্ত্রকারীদের জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ, এবং হাইটেক প্রযুক্তি ও স্মারকগুলোর নিরাপত্তা প্রদান। তারা ঘোষণা করে, যদি এই দাবিগুলো দ্রুত পূরণ না হয়, তবে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা দলীয় প্রধানের হাতে ন্যস্ত করল বিএনপি